ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতাবা খামেনিকে নির্বাচিত করার সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন ও শ্রদ্ধা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। গত বুধবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ (KCNA) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এই ঘোষণা প্রদান করে। বিবৃতিতে জানানো হয় যে, পিয়ংইয়ং ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের (Assembly of Experts) নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করে এবং তারা বিশ্বাস করে এটি ইরানি জনগণের অধিকার ও পছন্দের প্রতিফলন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর গত রবিবার তার মেজো ছেলে ৫৬ বছর বয়সী মোজতাবা খামেনিকে দেশটির তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। উত্তর কোরিয়া এই নেতৃত্ব পরিবর্তনকে সমর্থন জানিয়ে তেহরানের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়া শুধুমাত্র নতুন নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পিয়ংইয়ং এই হামলাকে “অবৈধ সামরিক আগ্রাসন” এবং “গুণ্ডামিমূলক আচরণ” হিসেবে অভিহিত করে বলেছে যে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বৃদ্ধি করছে এবং একটি স্বাধীন দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল যে, ইরানের নতুন নেতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে, যা উত্তর কোরিয়া সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। একই দিনে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ থেকে কৌশলগত ক্রুজ মিসাইল পরীক্ষা তদারকি করার মাধ্যমে পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রতি একটি পরোক্ষ হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ভবিষ্যতে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ‘প্রতিরোধ বলয়’ গড়ে তুলতে পারে।
