ভারতের পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অসমের নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিয়ে তিনটি বিশাল জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল অসমে এক দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে বিজেপির প্রচারকে আরও শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী ভবানিপুর-সরভোগ, হোজাই এবং ডিব্রুগড়ে দলের প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা করবেন। এই সভাগুলোতে তিনি মূলত রাজ্যের উন্নয়ন এবং গত কয়েক বছরে ডবল ইঞ্জিন সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিজেপি এবার অসমে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যে পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের বারামতী বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে এক ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের আকস্মিক প্রয়াণের ফলে শূন্য হওয়া এই আসনে উপনির্বাচন আগামী ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই পরিস্থিতিতে এনসিপি (শারদ পাওয়ার গোষ্ঠী) নেতা রোহিত পাওয়ার একটি আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বারামতীতে অজিত পাওয়ারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই উপনির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী নির্বাচিত করার জন্য সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিত পাওয়ারের মতে, পরিবারের এই কঠিন সময়ে এবং বারামতীর উন্নয়নের স্বার্থে একটি ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তবে মহাবিকাশ আঘাড়ি এবং মহাজুটির অন্যান্য শরিকরা এই আরজিতে সাড়া দেবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
একই সাথে দক্ষিণ ভারতেও নির্বাচনি হাওয়া বেশ গরম। তামিলনাড়ু এবং কেরালায় আগামী ৯ ও ২৩ এপ্রিল ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। কেরালায় এলডিএফ এবং ইউডিএফ জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে বিজেপিও নিজের জায়গা করে নিতে মরিয়া। তামিলনাড়ুতে এম.কে. স্ট্যালিনের ডিএমকে এবং পালানিস্বামীর এআইএডিএমকে-র মধ্যে সরাসরি সংঘাতের পাশাপাশি অভিনেতা বিজয়ের নতুন রাজনৈতিক দলের উপস্থিতিও বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। সব মিলিয়ে এপ্রিলের এই দাবদাহে ভারতের রাজনীতি এখন এক অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন। আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পরিষ্কার হবে জনগণের রায় কোন দিকে যায়।
