অবশেষে ১৬ দিন পর আসামের শিবসাগর জেলার রুদ্রসাগর গ্যাস ক্ষেত্রে ওয়েল নম্বর RDS-147-এ ঘটে যাওয়া গ্যাস বিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে ওয়েল অপারেটর ওএনজিসি (ONGC)। এই দীর্ঘস্থায়ী ব্লোআউটের ফলে আশেপাশের গ্রামগুলিতে ব্যাপক আতঙ্ক ও পরিবেশগত উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল।
ব্লোআউটটি শুরু হয়েছিল ১১ জুন, যখন হঠাৎ করে ওয়েল থেকে উচ্চচাপে গ্যাস নির্গমন শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে এবং বিস্ফোরণের আশঙ্কায় ৩৩০টিরও বেশি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ শিবির স্থাপন করে এবং প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করে।
আসাম মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই ঘটনাকে “গুরুতর” আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি-কে চিঠি লেখেন। তিনি ওএনজিসি-র “ধীর প্রতিক্রিয়া” নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রী তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, “ওএনজিসি-র প্রচেষ্টা দৃশ্যত আনুষ্ঠানিক এবং জরুরি পরিস্থিতির গুরুত্ব প্রতিফলিত করে না। স্থানীয় জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।”
ওএনজিসি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে জাঙ্ক শট, ওয়াটার ব্ল্যাংকেট এবং হেভি মাড পাম্পিং-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণে আনে। ২৬ জুন রাতে ওয়েলটি সফলভাবে সিল করা হয় এবং গ্যাস নির্গমন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়।
এই ব্লোআউটের ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্যঝুঁকি, কৃষিজমির ক্ষতি এবং পানীয় জলের দূষণের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই ঘটনার প্রভাব স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে পড়তে পারে।
ওএনজিসি জানিয়েছে, তারা একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যা ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করবে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সুপারিশ দেবে। রাজ্য সরকারও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
এই ঘটনাটি আবারও তুলে ধরেছে ভারতে জ্বালানি অনুসন্ধান ও উত্তোলন প্রকল্পগুলিতে নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় জনসম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তা।
