আসামের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন উত্তপ্ত, আর সেই উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি এক নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি ঘোষণা করেছেন যে, আসামের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও জনতাত্ত্বিক পরিচয় সুরক্ষিত রাখতে ভারতীয় জনতা পার্টি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, রাজ্যে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) কার্যকর করা হবে, যা সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এটি কেবল একটি আইনি সংস্কার নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠার একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।
ভাষণ চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী আসামের আদিবাসী ও জনজাতীয় গোষ্ঠীদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, আসামের ভূমিপুত্র ও আদিবাসীদের নিজস্ব ঐতিহ্য, ভাষা এবং জমির অধিকার রক্ষায় সরকার বিশেষ কবচ বা সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বহিরাগত অনুপ্রবেশ এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে আসামের পরিচয়কে রক্ষা করতে এই পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য বলে তিনি দাবি করেন। মোদী অভিযোগ করেন যে, পূর্ববর্তী সরকারগুলো কেবল ভোটের রাজনীতির খাতিরে আসামের জনতাত্ত্বিক কাঠামোকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যের মূল সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর।
নির্বাচনী এই উত্তাল পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় থাকলে আসামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের স্বার্থে কোনো আঘাত আসতে দেওয়া হবে না। উন্নয়নের সুফল যেন পাহাড় থেকে সমতল—সব জায়গার মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটিই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, আসন্ন নির্বাচনে ‘আসামের পরিচয়’ এবং ‘সাংস্কৃতিক সুরক্ষা’ হতে যাচ্ছে বিজেপির প্রচারণার প্রধান হাতিয়ার। এখন দেখার বিষয়, প্রধানমন্ত্রীর এই জোরালো প্রতিশ্রুতি ব্যালট বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে এবং আসামের সাধারণ মানুষ এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণকে কীভাবে গ্রহণ করে।
