জোরহাট, ২৫ জুলাই — আসামের গোলাঘাট জেলার উরিয়ামঘাটে আসন্ন উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে ১,০০০-র বেশি মালবাহী গাড়িতে ব্যাপকভাবে স্থানান্তরিত হয়েছেন বহু বাসিন্দা। উরিয়ামঘাট থানার আওতাধীন এলাকায় এই গাড়িগুলি নিবন্ধিত হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, উচ্ছেদ নোটিশ পাওয়ার পর বহু পরিবার নওগাঁ, মোরিগাঁও, হোজাই এবং শোণিতপুর জেলার দিকে রওনা হয়েছেন। ছোট মালবাহী গাড়িগুলি ৮,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিচ্ছে, আর বড় ট্রাকগুলির ভাড়া ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত, যার ফলে স্থানীয় পরিবহন ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার উপার্জন করেছেন বলে অনুমান।
সরূপথার বিধায়ক বিশ্বজিৎ ফুকন বৃহস্পতিবার জানান, বন দপ্তরের উচ্ছেদ নোটিশ পাওয়ার পর বহু অবৈধ দখলদার এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হোক। এরপর রেঙ্গমা বনাঞ্চল পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হবে।” তিনি আরও জানান, বন দপ্তর ইতিমধ্যে প্রায় ১১,০০০ বিঘা জমির সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে।
এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে উদ্বাস্তুদের আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। নওগাঁ জেলার লাহোরিঘাট ও ধিং, গোলাঘাটের কোরিগাঁও এলাকায় বহু পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, সরূপথার শাখার অল অসম চুতিয়া ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অভিজিৎ চুতিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কিছু অসাধু গোষ্ঠী উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের নামে সিন্ডিকেট চালাচ্ছে, যা প্রশাসনের তদন্তের দাবি রাখে।
উরিয়ামঘাটে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী রাজ্যগুলিও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নাগাল্যান্ড, মেঘালয় এবং মণিপুর সরকার তাদের জেলা প্রশাসকদের সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ রোধে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। মেঘালয় সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, “আসামে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে চলমান উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ রোধে সকল জেলা প্রশাসককে সতর্ক থাকতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।”
মণিপুর সরকারও অনুরূপ নির্দেশনা দিয়েছে, যদিও তারা সরাসরি উচ্ছেদ অভিযানের উল্লেখ করেনি। তারা নির্দেশ দিয়েছে, যদি কোনো অনুপ্রবেশকারী শনাক্ত হয়, তাহলে তাদের জীবনী ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে রাখা হবে এবং পরবর্তী সময়ে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হবে।
এই পরিস্থিতিতে উরিয়ামঘাটে উচ্ছেদ অভিযান শুধু স্থানীয় নয়, আন্তঃরাজ্য নিরাপত্তা ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্যের প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
