আসামের ডিমা হাসাও জেলায় টানা ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ভূমিধসে লামডিং-বদরপুর পাহাড়ি রেলপথ এবং ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে ত্রিপুরা, মণিপুর, মিজোরাম এবং বরাক উপত্যকার সঙ্গে রেল ও সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সোমবার বিকেলে জাতিংগা-লামপুর ও নিউ হরেংগাজাও স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় ভূমিধসের কারণে রেললাইনের উপর বড় আকারের পাথর ও কাদা-পানি ধসে পড়ে। এতে একাধিক ট্রেন আটকে পড়ে এবং রঙিয়া-শিলচর, শিলচর-গৌহাটি, আগরতলা-গৌহাটি, শিলচর-শিয়ালদহ সহ অন্তত ১২টি যাত্রীবাহী ট্রেন বাতিল করা হয়।
যাত্রীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দেয়, বিশেষ করে যাঁরা জরুরি প্রয়োজনে যাত্রা করছিলেন। বিকল্প হিসেবে বিমান পরিষেবা ব্যবহার করতে বাধ্য হলেও, টিকিটের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বাজারে প্রভাব ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধি
যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার প্রভাবে বরাক উপত্যকা ও আশপাশের রাজ্যগুলিতে জরুরি পণ্য, শাকসবজি ও ফলমূলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গৌহাটি থেকে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে বাজারে চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।
নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ দ্রুত মেরামতের জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। ইতিমধ্যে বুলডোজার ও বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও লাগাতার বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, বর্ষা এলেই প্রতিবছর এই ধরনের দুর্যোগের মুখে পড়তে হয়, অথচ স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেই। তাঁরা দ্রুত রেল ও সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এসডিআরএফ, রেলওয়ে কর্মী ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বয়ে কাজ করছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
