ভারত-মায়ানমার যৌথ উদ্যোগে নির্মিত কালাদান মাল্টিমোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প ২০২৭ সালের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে চালু হবে বলে ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রী সারবানন্দ সোনোয়াল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মিজোরামের রাজধানী আইজল থেকে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা পর্যন্ত যাত্রাপথ প্রায় ৭০০ কিলোমিটার কমে যাবে, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
গুয়াহাটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সোনোয়াল জানান, মায়ানমারের সিত্তে বন্দরের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং পালেটওয়া পর্যন্ত নদীপথ ও সড়কপথ নির্মাণ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। এই রুটের মাধ্যমে কলকাতা থেকে বঙ্গোপসাগর হয়ে সিত্তে বন্দরে পৌঁছবে পণ্যবাহী জাহাজ, সেখান থেকে কালাদান নদীপথ ধরে পালেটওয়া এবং পরে সড়কপথে জোরিনপুই হয়ে আইজলে পৌঁছবে মালবাহী যানবাহন।
প্রকল্পটির মাধ্যমে শিলিগুড়ি করিডরের উপর চাপ কমবে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশে গতি আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি, এই রুট সামরিক কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে চীন সীমান্তে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।
সরকার ইতিমধ্যে ₹১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে জলপথ উন্নয়নের জন্য, এবং অন্যান্য সংস্থাগুলি সড়ক ও বন্দরের পরিকাঠামো নির্মাণে যুক্ত রয়েছে। সোনোয়াল বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ‘পরিবর্তনের জন্য পরিবহন’ দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে এই প্রকল্প উত্তর-পূর্বকে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে।”
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মায়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর উপস্থিতি নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি করছে বলে সূত্রের খবর।
