ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর একটি বিশেষ ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড় (Waiver) ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে যদি তেলের বাজারে কোনো বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়, তবে রাশিয়ার তেল ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ কমানো। বিশেষ করে ভারতের মতো দেশগুলো, যারা রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে তেল আমদানিতে সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হচ্ছিল, তারা এই ৩০ দিনের জন্য কোনো বাধা ছাড়াই রুশ তেল সংগ্রহ করতে পারবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হলে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের এক-তৃতীয়াংশ পরিবাহিত হয়। এমতাবস্থায় বিশ্ববাজারের ভারসাম্য রক্ষা করতে বাইডেন প্রশাসন কৌশলগতভাবে রাশিয়ার ওপর থেকে সাময়িকভাবে কড়াকড়ি শিথিল করেছে। এটি একদিকে যেমন ভারতের মতো বৃহৎ আমদানিকারক দেশগুলোকে স্বস্তি দিচ্ছে, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়া থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে। তবে এই ছাড় মাত্র এক মাসের জন্য কার্যকর হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ৩০ দিনের সুযোগ ব্যবহার করে রিলায়েন্সের মতো বড় বড় তেল শোধনাগারগুলো দ্রুত সাশ্রয়ী মূল্যে রুশ তেল মজুত করার তোড়জোড় শুরু করেছে, যা শেষ পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়ে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করতে পারে।
