রাশিয়ান তেল কেনার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে এবং একটি সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করে, এবং ভারত যদি এই ক্রয় বন্ধ করত, তাহলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারত, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে তুলত।
ভারতের এই ক্রয় সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক নিয়মের আওতায় হয়েছে, বিশেষ করে G7 এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূল্যসীমা নীতিমালার মধ্যে। ভারতীয় কোম্পানিগুলি তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই তেল কিনছে এবং লেনদেনের জন্য মার্কিন ডলারের পরিবর্তে ইউএই দিরহামসহ অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহার করছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো নিষিদ্ধ লেনদেন বা কালোবাজারের সংশ্লিষ্টতা নেই।
এইচআইভি সংক্রমণ রোধে যেমন সচেতনতা জরুরি, তেমনি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও ভারতের জন্য অগ্রাধিকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ১.৪ বিলিয়ন মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ভারতের মূল লক্ষ্য। রাশিয়ার সঙ্গে এই সহযোগিতা বৈশ্বিক বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হয়েছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ভারতের রাশিয়ান তেল ক্রয়কে কেন্দ্র করে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে, ভারত এই পদক্ষেপকে “অন্যায্য, অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করেছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন যে ইউরোপ এবং আমেরিকা নিজেরাও রাশিয়ার গ্যাস ও ইউরেনিয়াম আমদানি করছে, ফলে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভারতীয় রিফাইনারিগুলি বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম, এবং দেশীয় চাহিদা পূরণে ৭০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ইউরোপীয় দেশগুলি রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল নিষিদ্ধ করার পর ভারতীয় ডিজেল ও জেট ফুয়েলের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছে, যা ভারতের ভূমিকার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে, ভারত তার জ্বালানি নীতিকে কৌশলগতভাবে পরিচালনা করে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে। এটি শুধুমাত্র জাতীয় স্বার্থ রক্ষা নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখার একটি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
