২০২৫ সালের নতুন আয়কর বিলের মাধ্যমে আয়কর আইন, ১৯৬১-তে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে। এই সংশোধনীগুলি সংসদে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন উপস্থাপন করেছেন, যা দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং করদাতাবান্ধব করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
🔹 ১. অবকাঠামো বিনিয়োগে কর ছাড়
২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০৩০ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগকারী সার্বভৌম সম্পদ তহবিল (Sovereign Wealth Funds) এবং পেনশন তহবিলের জন্য ডিভিডেন্ড, সুদ এবং দীর্ঘমেয়াদি মূলধন লাভে সম্পূর্ণ কর ছাড় দেওয়া হবে। পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (PIF) এবং তার সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী সংস্থাগুলিকে সরাসরি এই ছাড়ের আওতায় আনা হয়েছে।
🔹 ২. ব্লক অ্যাসেসমেন্ট না হওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান মামলার মূল্যায়ন স্থগিত
আয়কর বিভাগের অনুসন্ধান (search) মামলাগুলিতে ব্লক অ্যাসেসমেন্ট আদেশ না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত মূল্যায়ন স্থগিত থাকবে। এটি ব্যবসা পরিচালনার সহজতায় একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
🔹 ৩. নতুন কর ব্যবস্থায় ₹৭৫,০০০ স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন
নতুন কর ব্যবস্থায় (Section 115BAC 1A) বেতনভুক্ত কর্মীদের জন্য ₹৭৫,০০০ স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পূর্বে একটি খসড়া ত্রুটির কারণে এই ছাড়টি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রযোজ্য ছিল না, যা এখন সংশোধিত হয়েছে।
🔹 ৪. ইউনিফায়েড পেনশন স্কিমে (UPS) কর ছাড়ের স্পষ্টতা
জাতীয় পেনশন স্কিমের (NPS) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে UPS-এও কর ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যেমন, স্কিম বন্ধের সময় মোট জমার ৬০% পর্যন্ত করমুক্ত উত্তোলন এবং ২৫% পর্যন্ত আংশিক উত্তোলন করমুক্ত থাকবে।
এই চারটি সংশোধনী আয়কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ, যুক্তিসঙ্গত এবং করদাতাদের জন্য উপযোগী করে তুলবে বলে মনে করছে সরকার।
