February 12, 2026
Screenshot 2026-02-12 152031

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত রাজনীতিতে এক চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে একজন প্রাক্তন ইরানি সামরিক কমান্ডারের বিস্ফোরক দাবির পর। তাঁর দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক এক গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় রিয়াদ ইতিমধ্যেই পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করেছে অথবা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই প্রযুক্তি ও অস্ত্রের সুরক্ষা বলয় নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও সৌদি আরব ঐতিহাসিকভাবে পরমাণু অস্ত্রহীন রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত, কিন্তু এই ইরানি জেনারেলের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের মূল ভিত্তি হলো পাকিস্তানের সাথে সৌদির কয়েক দশকের গভীর সামরিক সম্পর্ক এবং বর্তমান ২০২৬ সালের পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপট। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি তার নিজস্ব পরমাণু কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যায়, তবে রিয়াদও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না—এমন ইঙ্গিত খোদ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আগেই দিয়েছিলেন।

এই দাবির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ২০২৫ সালের শেষার্ধে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ‘মিউচুয়াল ডিফেন্স প্যাক্ট’ বা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির একটি অন্যতম দিক হলো, কোনো একটি দেশের ওপর বহিঃশত্রুর আক্রমণ হলে তা উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন যে, প্রয়োজনে পাকিস্তানের পারমাণবিক সামর্থ্য সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। মূলত এই ‘পারমাণবিক ছাতা’ বা ‘নিউক্লিয়ার আমব্রেলা’ প্রদানের বিষয়টিই ইরানকে বিচলিত করে তুলেছে। প্রাক্তন ইরানি কমান্ডারের দাবিটি কেবল রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর নয়, বরং এটি ওই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব প্রতিহত করার জন্য একটি সম্মিলিত সুন্নি জোটের ক্রমবর্ধমান শক্তির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এই ধরণের তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো মেলেনি এবং পাকিস্তান সরকার বরাবরের মতোই পারমাণবিক প্রযুক্তি পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেকদিন ধরেই সন্দেহ করছে যে, পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রাথমিক অর্থায়ন যেহেতু সৌদি আরবের কাছ থেকে এসেছিল, তাই সংকটের মুহূর্তে রিয়াদ এই প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করবে—এমন একটি অলিখিত চুক্তি আগে থেকেই বিদ্যমান থাকতে পারে। বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় ইসরায়েল-ইরান সংঘাত এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতার মাঝে সৌদি আরবের পারমাণবিক শক্তি অর্জনের এই অভিযোগ পুরো অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্যকে আমূল বদলে দিতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এই খবরের সত্যতা নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য না করলেও, মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন ‘নিউক্লিয়ার রেস’ বা পরমাণু প্রতিযোগিতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *