February 11, 2026
1

চলতি বর্ষা মৌসুমে আসাম জুড়ে খরার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় রাজ্য কৃষি সংকটের মুখোমুখি। অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ধান চাষ ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষিজমি শুকিয়ে ফাটল ধরছে, যা কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই গুরুতর পরিস্থিতিতে, নিখিল আসাম সমাজবাদী জনগণতান্ত্রিক গণস্বরাজ পার্টি এবং ইন্ডিয়ান প্যাট্রিয়টিক ফেডারেশন-সোশ্যালিস্ট (আইপিএফএস) যৌথভাবে সরকারের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে।

শুক্রবার এক প্রেস বিবৃতিতে নিখিল আসাম সমাজবাদী জনগণতান্ত্রিক গণস্বরাজ পার্টি ও ইন্ডিয়ান প্যাট্রিয়টিক ফেডারেশন-সোশ্যালিস্ট (আইপিএফএস)-এর আসাম রাজ্য সমন্বয়ক প্রাঞ্জল রাজগুরু বলেন, “বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এখন আসামের প্রাকৃতিক ভূদৃশ্যে স্পষ্ট। খরার মতো পরিস্থিতির কারণে কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন।”

তিনি জানান, এই বর্ষা মৌসুমে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ৬৭% থেকে ৮২% পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা গেছে। এটি কৃষকদের জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ ফসল উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।

রাজগুরু আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে খরা-ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ মকুব এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে আলোচনা চললেও, সারা ভারতে মাত্র ৩৫.২৩% কৃষক কোনো না কোনো কৃষি বীমার আওতায় আছেন। কিন্তু আসামে এই সংখ্যা আরও হতাশাজনক। এখানে মাত্র ২৩% কৃষক ফসল বীমা প্রকল্পে নথিভুক্ত, যা জাতীয় গড়ের থেকে অনেক কম। এর ফলে, রাজ্যের প্রায় ৭৭% কৃষক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য নন।

তিনি বলেন, “এই পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। এটি প্রমাণ করে যে আসামের কৃষকরা এখনও গুরুত্বপূর্ণ কৃষি পরিকল্পনা ও নীতি সম্পর্কে অবগত নন বা সেগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন।”

রাজগুরু জোর দিয়ে বলেন যে, কেবল ক্ষতিপূরণ দেওয়া সমস্যার সমাধান নয়, বরং পর্যাপ্ত ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করাটাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। “ক্ষতিপূরণ খাদ্য উৎপাদনের বিকল্প হতে পারে না। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নির্ভর করে কৃষকদের পর্যাপ্ত ফসল ফলানোর ক্ষমতার উপর, শুধুমাত্র দুর্যোগের পর আর্থিক সহায়তার উপর নয়।”

এই পরিস্থিতিতে, দুই সংগঠন সরকারের কাছে অবিলম্বে খরা পরিস্থিতি মোকাবিলা, ফসল বীমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আসামের কৃষকদের সহায়তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

profile picture

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *