March 27, 2026
Screenshot 2026-03-25 123454

ভারতের জাতীয় কংগ্রেসকে তাদের দীর্ঘদিনের ঠিকানা নয়াদিল্লির ২৪ নম্বর আকবর রোড এবং রাইসিনা রোডের বাংলো খালি করার জন্য চূড়ান্ত উচ্ছেদ নোটিশ পাঠাল কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রক। গত কয়েক দশক ধরে এই বাংলোগুলিই ছিল কংগ্রেসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। বিশেষ করে আকবর রোডের বাংলোটি বহু বছর ধরে নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক দলকে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সরকারি বাংলো বরাদ্দ করা হলে, তাদের নিজস্ব জমি পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারি আবাসন ছেড়ে দিতে হয়। তথ্য বলছে, দিল্লির কোটলা রোডে কংগ্রেসকে নিজস্ব দপ্তর তৈরির জন্য অনেক আগেই জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, সেই নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর বা সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর সরকারি বাংলো হস্তান্তরের কথা। কিন্তু বারবার সময় বাড়ানো সত্ত্বেও কংগ্রেস এই কার্যালয়গুলি খালি করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।

কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনে থাকা ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (L&DO) জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে এই আবাসনগুলি ব্যবহারের জন্য মোটা অঙ্কের ভাড়ার টাকাও বকেয়া রয়েছে। বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরেও বকেয়া মেটানো এবং বাংলো খালি করার বিষয়ে সদর্থক ভূমিকা না নেওয়ায় এবার চূড়ান্ত উচ্ছেদ নোটিশ জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশের ফলে আকবর রোড ছাড়াও রাইসিনা রোড ও চাণক্যপুরীর নির্দিষ্ট কিছু সরকারি আবাসনও কংগ্রেসকে ছেড়ে দিতে হবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কংগ্রেসের জন্য বড় ধরনের বিড়ম্বনা। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে দপ্তরের ঠিকানা বদল করা এবং বকেয়া ভাড়ার বিতর্ক দলের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, নতুন দপ্তরের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি এবং এই নোটিশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে সরকারি আধিকারিকদের মতে, এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। দ্রুত এই নির্দেশ পালন না করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে লুটিয়েন্স দিল্লির এই ঐতিহাসিক ঠিকানাগুলি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে সংঘাত এখন তুঙ্গে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *