বিহারের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যসভার পথে পা বাড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। আজ ৫ মার্চ, ২০২৬ সকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রাক্কালে বিহারের সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে একটি অত্যন্ত আবেগঘন চিঠি প্রকাশ করেছেন জেডিইউ সুপ্রিমো। চিঠিতে তিনি বিহারের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, গত দুই দশক ধরে তিনি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে রাজ্যের সেবা করার চেষ্টা করেছেন। বিহারের দীর্ঘতম মেয়াদের এই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেন, “আমি সবসময় বিহারের উন্নয়ন এবং সামাজিক মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। এখন সময় এসেছে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে থেকে দেশের জন্য কাজ করার।”
নীতিশ কুমারের এই আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ফলে বিহারের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সূত্রমতে, এনডিএ জোটের সমঝোতা অনুযায়ী আগামীতে বিহারে প্রথমবারের মতো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) থেকে মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত হতে পারেন। নীতিশ কুমার রাজ্যসভায় চলে গেলে বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। পাশাপাশি নীতিশ কুমারের পুত্র নিশান্ত কুমারের রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক অভিষেক এবং তাঁকে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও জোর আলোচনা চলছে। মূলত গত বছর বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোটের বড় জয়ের পর থেকেই নীতিশ কুমারের জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে গুঞ্জন ছিল।
নীতিশ কুমার তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে রেকর্ড ১০ বার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁর শাসনামলে বিহারের অবকাঠামো উন্নয়ন, নারী শিক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য তিনি ‘সুশাসন বাবু’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তবে তাঁর রাজ্যসভায় যাওয়ার এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই একটি যুগের অবসান হিসেবে দেখছেন। আবেগঘন ওই বার্তায় তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পদ পরিবর্তন হলেও বিহারের প্রতিটি মানুষের সাথে তাঁর আত্মার সম্পর্ক আজীবন অটুট থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে আজ মনোনয়নপত্র জমার মাধ্যমে নীতিশ কুমারের এই নতুন যাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে যাচ্ছে
