March 23, 2026
13

আসাম সাধারণত বন্যাপ্রবণ রাজ্য হিসেবে পরিচিত হলেও, এবছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে চলা অনাবৃষ্টির কারণে রাজ্যের বেশিরভাগ জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে, কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, বিশেষ করে খরিফ শস্য যেমন ধানের ফলনে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে, কারণ অনেক জায়গায় ফসল নষ্ট হতে শুরু করেছে এবং বহু কৃষিজমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে আসাম সরকার নিম্নলিখিত জরুরি পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে: খরা-আক্রান্ত জেলাগুলোতে খাদ্যশস্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ শুরু করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে কৃষকদের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, সেখানে খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ নজর দিয়েছে।

পানীয় জলের সংকট মেটাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হচ্ছে। যেসব নলকূপ শুকিয়ে গেছে, সেগুলোর বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, স্বল্প মেয়াদী ও খরা প্রতিরোধী ফসলের বীজ বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে কৃষকরা পুনরায় চাষাবাদ শুরু করতে পারেন। কৃষি বিজ্ঞানীদের পরামর্শ অনুযায়ী, সেচ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

যেসব এলাকায় সেচ ব্যবস্থা অপ্রতুল, সেখানে ছোটো বাঁধ তৈরি, খাল ও জলাশয় খনন এবং ভূগর্ভস্থ জলস্তর বাড়ানোর জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের আধুনিক সেচ পদ্ধতি যেমন ড্রিপ ইরিগেশন বা স্প্রিংকলার ইরিগেশন ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

রাজ্য সরকার নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জেলা প্রশাসনগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। খরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *