February 28, 2026
Screenshot 2026-02-28 115638

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিষয়ক বিশ্বখ্যাত স্টার্টআপ ‘অ্যানথ্রোপিক’ (Anthropic)-এর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। মূলত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগনের সঙ্গে সংস্থাটির দীর্ঘদিনের বিবাদের জের ধরেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সমস্ত ফেডারেল সংস্থাকে অবিলম্বে অ্যানথ্রোপিকের তৈরি ‘ক্লড’ (Claude) এআই মডেলসহ সকল প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই মার্কিন কোম্পানিটিকে ‘সাপ্লাই চেইন রিস্ক’ বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—যে তকমাটি সাধারণত চীনের হুয়াওয়ের মতো বিদেশি শত্রুভাবাপন্ন সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটিকে ‘উগ্র বামপন্থী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সাফ জানিয়ে দেন যে, যারা আমেরিকার সংবিধানের চেয়ে নিজেদের শর্তাবলীকে বড় করে দেখে, তাদের সঙ্গে কোনো ব্যবসা করা হবে না।

এই বিতর্কের মূলে রয়েছে পেন্টাগনের একটি দাবি। মার্কিন সামরিক বাহিনী চেয়েছিল অ্যানথ্রোপিকের এআই প্রযুক্তিকে কোনো বাধা ছাড়াই যুদ্ধের ময়দানে এবং নজরদারির কাজে ব্যবহার করতে। কিন্তু অ্যানথ্রোপিক কর্তৃপক্ষ পেন্টাগনের এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। সংস্থাটির দাবি, তাদের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই গণ-নজরদারি বা মানুষের নিয়ন্ত্রণহীন স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা উচিত নয়। নৈতিকতার প্রশ্নে অটল থাকায় এবং সামরিক বাহিনীর শর্ত মেনে না নেওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, যেসব সরকারি সংস্থা বর্তমানে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, তাদের পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে এটি পুরোপুরি সরিয়ে ফেলতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অ্যানথ্রোপিক এখন থেকে কোনো সরকারি ঠিকাদার বা অংশীদারের সঙ্গেও বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারবে না, যা সংস্থাটির ২০০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি চুক্তিতে বড় ধরণের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অ্যানথ্রোপিক এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের মতে, একটি আমেরিকান কোম্পানিকে এভাবে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা নজিরবিহীন এবং আইনত ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, প্রতিযোগী সংস্থা ওপেনএআই (OpenAI)-এর প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং গুগল ও ওপেনএআই-এর শত শত কর্মী অ্যানথ্রোপিকের এই নৈতিক অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এআই-এর অপব্যবহার রোধে মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকা অত্যন্ত জরুরি। তবে ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, বেসরকারি কোম্পানির শর্তের কারণে সামরিক সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হওয়া মেনে নেওয়া হবে না। এই ঘটনাটি বর্তমানে সিলিকন ভ্যালি এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে এক বিশাল স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম দিয়েছে, যার প্রভাব ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিকাশের ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *