বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন ও চিন্ময় প্রভুকে অকারনে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছেন হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি। সোমবার আগরতলার সার্কিট হাউস অবস্থিত গান্ধী মূর্তির সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি। পরবর্তী সময়ে এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ছয় জনের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সহকারি হাইকমিশন আগরতলা অফিসে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এই স্মারক লিপির মাধ্যমে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি দাবি জানিয়েছেন বঙ্গ, পূর্ব বাংলা, পূর্ব পাকিস্তান ও বর্তমান বাংলাদেশ এই অঞ্চলে শত শত বছর ধরে হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা বসবাস করে আসছে।
বাংলাদেশ ইসলামিক দেশ ঘোষণার পরেও সংবিধানে সংখ্যালঘুদের (হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান) সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু বহু বছর ধরে বহুবার হিন্দুদের উপর অত্যাচারের ধারাবাহিকতা চলছে। নারী-শিশুদের উপর নৃশংসতা, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ও লুটপাট, ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙচুর এসব নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ভাগোর বিষয় যে, সরকার ও প্রশাসনের দৃষ্টিতে অবগত থাকা সত্ত্বেও এটি বন্ধের কোনো উদ্যোগ নেই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাই এ ধরনের নৈরাজ্যবাদী ধর্মান্ধদের সাহস বাড়ছে। এসব আক্রমণ অতি শীঘ্রই বন্ধ করার দাবিতে। এদিন স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় হঠাৎ বাংলাদেশ সরকারি হাইকমিশন আগরতলার অফিসে কিছু হিন্দু যুবকরা ভিতরে প্রবেশ করে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলে এবং সেই পতাকা ছিড়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে অফিসের সামনে থাকা কিছু সাইনবোর্ড ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় এবং আগুন লাগিয়ে দেয়।
এই বিষয়ে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি কার্যকরী মেম্বার বিকে রয় জানিয়েছেন ডেপুটেশন দেওয়া কালীন বাইরে কি ঘটনা ঘটেছে তারা দেখেননি তবে তারা শুনতে পেয়েছে এবং তারা ডেপুটেশন দিয়ে আসার পরও কাউকে অফিসের ভিতরে দেখতে পাননি। পরবর্তী সময়ে ঘটনার খবর পেয়ে ত্রিপুরা পুলিশের ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্ট সহ স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি ঘটনাস্থলে আসেন সহকারি বাংলাদেশ সহকারি হাইকমিশনের অফিসটি ঘুরে দেখেন এবং হাই কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের সামনে কিছুই বলেননি এই বিষয়ে ডিজি ইন্টেলিজেন্ট। পরবর্তী সময়ে ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে একটি বিবৃতি জারি করে এই ঘটনার জন্য গভীর শোকপ্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমানে আগরতলা বাংলাদেশ সরকারি হাইকমিশনে প্রচুর পরিমাণে আধা সামরিক বাহিনী ও পুলিশ মোতায়ন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
