ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা ঘটিয়ে দিল্লির ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘যমুনা র্যাপিড রেল’ করিডোরটি এখন উদ্বোধনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দিল্লির সরাই কালে খান থেকে মিরাট পর্যন্ত বিস্তৃত এই উচ্চগতির রেল প্রকল্পটি রাজধানী অঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই করিডোরটির নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সেমি-হাইস্পিড রেল পরিষেবার মাধ্যমে দিল্লি থেকে মিরাট পৌঁছাতে এখন মাত্র এক ঘণ্টারও কম সময় লাগবে, যা আগে সড়কপথে দুই ঘণ্টার বেশি সময় নিত। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত এই ট্রেনের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার, যা যাত্রীদের যেমন দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে, তেমনই প্রতিদিনের যানজট থেকেও মুক্তি দেবে। প্রকল্পের আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, এই র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম বা আরআরটিএস (RRTS) করিডোরটি পরিবেশবান্ধব এবং এতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যেমন ওয়াই-ফাই, সিসিটিভি এবং বিশেষ প্রতিবন্ধী আসন থাকবে। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ এবং যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত শিল্পাঞ্চলগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এই প্রকল্প বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। প্রধানমন্ত্রী শীঘ্রই এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিশাল পরিকাঠামোটির উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। এটি জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের (NCR) মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
