February 11, 2026
Screenshot 2026-02-11 154816

বাজেট অধিবেশন চলাকালীন লোকসভায় কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর আলোচনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর মধ্যে এক নজিরবিহীন বাকযুদ্ধ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিতর্কের মূল সূত্রপাত ঘটে যখন রাহুল গান্ধী সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকার দেশের সম্পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো মুষ্টিমেয় কয়েকজন শিল্পপতির হাতে তুলে দিয়ে কার্যত ‘দেশ বিক্রি’ করার নীতি অনুসরণ করছে। রাহুল গান্ধীর দাবি ছিল, এই বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কেবল সরকার ঘনিষ্ঠ পুঁজিপতিদের সুবিধার্থেই সব পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য শাসক শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু তৎক্ষণাৎ এর প্রতিবাদে সরব হন। রিজিজু পালটা অভিযোগ করেন যে, কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই রাহুল গান্ধী সংসদের মতো পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অবমাননাকর মন্তব্য করছেন।

নিজের বক্তব্যে রিজিজু দাবি করেন, কংগ্রেস জমানার দুর্নীতিগ্রস্ত অর্থনীতি থেকে ভারতকে মুক্ত করে বর্তমান সরকার একটি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন যে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এবং সংসদে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা রাহুল গান্ধীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সরকারের উন্নয়নমূলক সংস্কারকে ‘দেশ বিক্রি’ হিসেবে তকমা দেওয়া দেশের অগ্রগতির পথে বড় বাধা বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, বাদানুবাদ চলাকালীন রাহুল গান্ধী বেকারত্ব এবং কৃষক সমস্যার কথা বারবার তুলে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন যে, এই বাজেট দেশের মাত্র ১০ শতাংশ বিত্তবান মানুষের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে বাকি ৯০ শতাংশ মানুষ চরম বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

এই বিতর্কের জেরে লোকসভায় হট্টগোল এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে স্পিকারকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয়। বিজেপি সাংসদরা রাহুল গান্ধীর ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সরব হন, অন্যদিকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সদস্যরা তাঁর সমর্থনে পালটা স্লোগান দিতে থাকেন। রিজিজু তাঁর যুক্তিতে বলেন যে, মোদী সরকারের আমলে পরিকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা খাতে যে যুগান্তকারী উন্নয়ন হয়েছে, তা ভারতকে বিশ্বদরবারে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি রাহুল গান্ধীর অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দিয়ে জানান যে, সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখেই নেওয়া হয়েছে।

পুরো বিষয়টি ঘিরে সংসদ চত্বরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। রাহুল গান্ধী যখন আদানি ও আম্বানির মতো শিল্পপতিদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আনেন, তখন রিজিজু তথ্য দিয়ে দাবি করেন যে বর্তমান সরকারের আমলেই ভারত প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে প্রকৃত স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। দিনভর চলা এই বাকযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোনো মীমাংসায় না পৌঁছালেও এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাজেট ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী পক্ষের রাজনৈতিক মেরুকরণ এখন এক চরম সংঘাতের রূপ নিয়েছে। উন্নয়ন বনাম দুর্নীতির এই লড়াই সংসদীয় গণতন্ত্রের আঙিনায় এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *