অসমের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মঙ্গলবার চারাাইদেও মইদামকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে রাজ্যের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি এই ঘটনাকে “যথাযথ শ্রদ্ধার্ঘ্য” বলে অভিহিত করে জানান, এটি আহোম সাম্রাজ্যের ৬০০ বছরের গৌরবময় ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। আহোম রাজবংশ দীর্ঘকাল অসমের ইতিহাস ও পরিচিতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
অসমের ‘পিরামিড’ নামে পরিচিত এই মইদামগুলি আসলে আহোম রাজাদের সমাধিক্ষেত্র, যা চারাাইদেও জেলায় অবস্থিত। এই স্থাপত্যগুলি আহোমদের বিশেষ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রথা এবং নির্মাণশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন।
মুখ্যমন্ত্রী এই স্বীকৃতির জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগকে কৃতিত্ব দেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’-এর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি পর্যটন শিল্পে বড়সড় উত্থান ঘটাবে। দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা আকৃষ্ট হবেন, পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলবে।
ইতিহাসবিদ ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা এই স্বীকৃতিকে অসমের ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, মইদামই অসমের প্রথম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যা ইউনেস্কোর তালিকায় স্থান পেল।
পর্যটনের পাশাপাশি, এই স্বীকৃতি স্থানীয় মানুষের মধ্যে গর্ব ও আত্মপরিচয় আরও শক্তিশালী করবে এবং অর্থনৈতিক দিক থেকেও উপকার বয়ে আনবে।
অসম যখন এই সাফল্য উদযাপন করছে, তখন আগামী দিনে এই ঐতিহ্যের সুরক্ষা এবং দায়িত্বশীল পর্যটন নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য, যাতে আহোম যুগের ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক থাকে।
