ভারতের লোকসভায় বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী যখন সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখছিলেন, তখন বারবার তার ভাষণে ব্যাঘাত ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ অত্যন্ত কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের সময় শাসকদলের পক্ষ থেকে এবং স্পিকারের হস্তক্ষেপে অন্তত ২০ বারেরও বেশি বাধা দেওয়া হয়েছে। গগৈয়ের মতে, বিরোধী নেতার কণ্ঠরোধ করতেই সুপরিকল্পিতভাবে এই কৌশল নেওয়া হয়েছে, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়।
বাজেট অধিবেশনের এই ভাষণে রাহুল গান্ধী জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিশেষ করে ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাত নিয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নরভানের একটি অপ্রকাশিত আত্মজীবনীর সূত্র ধরে সরকারের সমালোচনা করতে শুরু করলে অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ জানান। তাদের দাবি ছিল, কোনো অপ্রকাশিত এবং অননুমোদিত পাণ্ডুলিপি থেকে সংসদে উদ্ধৃতি দেওয়া নিয়মনীতি বিরোধী। এই তর্কের জেরেই বারবার স্পিকারের হস্তক্ষেপে রাহুল গান্ধীর মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তাকে বক্তব্য শেষ করতে বাধা দেওয়া হয় বলে কংগ্রেস সাংসদদের অভিযোগ।
এই ঘটনার প্রতিবাদে কংগ্রেসসহ ইন্ডি (INDIA) জোটের শরিক দলগুলো সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিক্ষোভ শুরু করে। গৌরব গগৈ গণমাধ্যমকে বলেন যে, সরকার সংবেদনশীল জাতীয় ইস্যুগুলো এড়িয়ে যেতে চাইছে এবং আলোচনা থেকে নজর ঘোরাতেই বিরোধী নেতার ভাষণে এই ধরনের নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিজেপি সরকার সংসদকে একতরফাভাবে চালানোর চেষ্টা করছে এবং বিরোধীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। অন্যদিকে, সরকার পক্ষের দাবি ছিল রাহুল গান্ধী সংসদের রীতিনীতি ভঙ্গ করছেন এবং অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
লোকসভার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে ইতোমধ্যে কংগ্রেসের আটজন সাংসদকে পুরো অধিবেশনের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাকে অপসারণের জন্য একটি প্রস্তাবও আনা হয়েছে। রাহুল গান্ধীর ভাষণ নিয়ে এই টানাপোড়েন এখন কেবল সংসদের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি ভারতের বর্তমান জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরকার এবং বিরোধীদের এই অনমনীয় অবস্থান সংসদীয় কার্যক্রমকে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
