যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীদের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে, যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিসরের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারী দল দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর জানিয়েছে যে, আলোচনা এখন একটি ‘ডেড এন্ড’ বা কানাগলিতে পৌঁছেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দিয়েছে যে তারা ইসলামাবাদে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসতে আগ্রহী নয়। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলোকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে এবং জানিয়েছে যে তাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের পরিপন্থী কোনো শর্তে তারা আপস করবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের অবকাঠামোতে সাম্প্রতিক হামলার পর এই অনড় অবস্থান আরও প্রকট হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই পরিস্থিতির জন্য ইরানকেই দায়ী করছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, আলোচনার পথ সবসময় খোলা থাকলেও ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। মধ্যস্থতাকারীরা বর্তমান অচলাবস্থা কাটানোর জন্য কাতার বা ইস্তাম্বুলে নতুন করে বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও কোনো পক্ষই নমনীয় হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। ইরান শর্ত দিয়েছে যে, যেকোনো চুক্তির আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা সামরিক তৎপরতা এবং বাগ্যুদ্ধের ফলে এই অঞ্চলে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। কূটনৈতিক এই ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক তেল বাজার ও বৈশ্বিক নিরাপত্তাতেও পড়তে শুরু করেছে।
