ক্ষতিকর নেশাজাতীয় বস্তু হিসেবে গাঁজা নিষিদ্ধ হলেও বর্তমানে সেই গাঁজাই বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসাবিদ্যায় এক নতুন দিক উন্মোচন করলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, নেশার উদ্দেশ্যে নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত ও চিকিৎসাগত প্রয়োগে গাঁজার উপাদান মানবদেহের জন্য উপকারী হতে পারে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গাঁজার মধ্যে থাকা ক্যানাবিনয়েড উপাদান দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা উপশমে কার্যকর হতে পারে। স্নায়বিক সমস্যা, ক্যানসারের উপসর্গ এবং অনিদ্রার ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। মানসিক চাপ কমাতেও এই উপাদান সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
সম্প্রতি ইজরায়েলের একদল গবেষক গাঁজার আরও একটি সম্ভাব্য ব্যবহার সামনে এনেছেন। তাঁদের দাবি, গাঁজার দুটি উপাদান, ক্যানাবিডল (সিবিডি) এবং ক্যানাবিজেরল (সিবিজি) ফ্যাটি লিভার রোগের চিকিৎসায় কার্যকর হতে পারে। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই উপাদানগুলি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
মানবদেহে ‘ক্যাথেপসিন’ নামক এক ধরনের উৎসেচক কোষের ভেতরের বর্জ্য পদার্থ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে দেহে ক্ষতিকর পদার্থ জমতে থাকে। গবেষকদের মতে, সিবিডি ও সিবিজি এই উৎসেচককে পুনরায় সক্রিয় করতে পারে এবং লিভারে জমে থাকা চর্বি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
যদিও এই গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবুও বিজ্ঞানীরা আশাবাদী। তাঁদের মতে, গাঁজার ইতিবাচক দিকগুলোকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বহু জটিল রোগের চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে লিভারের রোগ যেভাবে বাড়ছে, তাতে গাঁজা সেবন নয়, বরং গাঁজা-ভিত্তিক ওষুধ সেবন কার্যকরী হতে পারে।
