মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নতুন জাতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নীতিন নবীন।
মাত্র ৪৫ বছর বয়সে দলের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক পদে আসীন হয়ে তিনি বিজেপির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সভাপতির নজির গড়লেন। দীর্ঘ ছয় বছর পর জেপি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত হলেন বিহারের এই তরুণ নেতা।
দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে আয়োজিত দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিদায়ী সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা নীতিন নবীনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে এই পদে ছিলেন নাড্ডা।
এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিজেপিশাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি, ওড়িশার মোহন চরণ মাঝি, হরিয়ানার নায়েব সিং সাইনি, রাজস্থানের ভজনলাল শর্মা ও ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। রাজস্থানের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দিয়া কুমারীও এদিন উপস্থিত ছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই নেতৃত্ব বদলকে বিজেপির সাংগঠনিক সংস্কারের বড় ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
পাশাপাশি ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই নীতিন নবীনের উপর এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সংসদীয় সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) ও সংসদে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বিহারের রাজনীতিতে নীতিন নবীন একটি পরিচিত নাম। নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন বিহার সরকারের মন্ত্রিসভায় তিনি পথ নির্মাণ, নগর উন্নয়ন ও আইন ও বিচার দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন। মন্ত্রী থাকাকালীন পরিকাঠামো উন্নয়ন, নগর আবাসন ও সংবাদকর্মী ও আশা – মমতা কর্মীদের কল্যাণে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
১৯৮০ সালের ২৩ মে রাঁচিতে জন্মগ্রহণকারী নীতিন নবীনের পিতা নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহাও ছিলেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা। ২০০৬ সালে পাটনা পশ্চিম কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথমবার বিধায়ক হন।
পরবর্তীতে সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর বাঙ্কিপুর কেন্দ্র থেকে ২০১০, ২০১৫, ২০২০ ও ২০২৫ টানা পাঁচবার বিধায়ক নির্বাচিত হন নীতিন নবীন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দীপমালা শ্রীবাস্তবের সঙ্গে বিবাহিত ও তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে।
