ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তাপ এখন সাইবার এবং প্রযুক্তিবিশ্বেও ছড়িয়ে পড়েছে। আমাজন ওয়েব সার্ভিসেস (AWS) জানিয়েছে, ড্রোন হামলার কারণে বাহরাইনে তাদের ক্লাউড ডেটা সেন্টারগুলোর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আমাজনের ডিজিটাল পরিষেবা ব্যবহারকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। আমাজন কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তাদের গ্রাহকদের বিকল্প সার্ভারে তথ্য স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছে। এই প্রযুক্তিগত বিপর্যয়কে যুদ্ধের একটি নতুন দিক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
এদিকে, একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর পাঁচ দিনের সাময়িক বিরতি ঘোষণা করলেও সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ইউনিট এবং নৌঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র পরবর্তী ধাপগুলো কার্যকর করা হবে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যতক্ষণ না তেহরান তাদের আক্রমণাত্মক নীতি থেকে সরে আসছে, ততক্ষণ এই অভিযান থামবে না। ইরানও পাল্টা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, তাদের ভূখণ্ডে যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তারা হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোতে ড্রোন সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সাধারণ মানুষ এই সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন, কারণ এতে কেবল সামরিক ক্ষয়ক্ষতিই হচ্ছে না, বরং বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও আপাতত কোনো পক্ষই পিছু হঠার লক্ষণ দেখাচ্ছে না।
