একসময় বিলুপ্তির পথে থাকা আসামের ঐতিহ্যবাহী ‘পুথি চিত্র’ শিল্পকলাকে নতুন জীবন দিয়েছেন নগাঁওয়ের শিল্পী সুজিত দাস। তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এই প্রাচীন শিল্প কেবল পুনরুজ্জীবিতই হয়নি, বরং আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করেছে।
২০১৪-১৫ সালে ভারত সরকারের জাতীয় ফেলোশিপ প্রাপ্তির পর, দাস দুবাই ও থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ‘পুথি চিত্র’ প্রদর্শন করেছেন। তিনি শ্রীলঙ্কা, চীন, নাইরোবি ও লন্ডনে অসংখ্য কর্মশালা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন।
প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটন দাসের কাজের প্রশংসা করেছেন এবং তার আঁকা একটি ‘পুথি চিত্র’ পেয়েছেন। লন্ডনের কেনসিংটন প্যালেসে প্রদর্শিত হয়েছে তার শিল্পকর্ম ‘গিরিধারী’। চতুর্দশ দালাই লামাও তার কাজের গুণমুগ্ধ।
৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও কর্মশালার মাধ্যমে সুজিত দাস নিজেকে ‘পুথি চিত্র’-এর একজন প্রধান প্রবক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০১২ সালে, বিশ্বের দীর্ঘতম তুলি ব্যবহার করে চিত্রকর্ম তৈরির জন্য তিনি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তোলেন। এরপর, ২০২১ সালে নগাঁওয়ে তিনি একটি আর্ট ভিলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে জাদুঘর ও আর্ট গ্যালারি রয়েছে।
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত তার জ্যোতি চিত্রাঙ্গন বিদ্যালয় ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই শিল্পকলার প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। আর্ট ভিলেজের মাধ্যমে দাস ‘সাঁচি পাত’ তৈরি ও প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহারের কৌশল শেখাচ্ছেন নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের। ‘পুথি চিত্র’কে বাঁচিয়ে রাখতে ও বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে সুজিত দাসের এই নিবেদন সত্যিই অতুলনীয়।
