February 20, 2026
Screenshot 2026-02-20 150902

অসমের অর্থমন্ত্রী অজন্তা নেওগ রাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এক উল্লেখযোগ্য সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেছেন। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে বাজেট বরাদ্দের ব্যবহারের হার পূর্ববর্তী ৫৮ শতাংশ থেকে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে। গত ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে বাজেট পেশের পরবর্তী এক পর্যালোচনায় অর্থমন্ত্রী জানান যে, প্রশাসনিক স্তরে আমূল পরিবর্তন এবং আর্থিক সংস্কারের ফলেই এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে। এর আগে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যেত যে বাজেটে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হলেও প্রশাসনিক জটিলতা বা সঠিক পরিকল্পনার অভাবে তার একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে যেত। কিন্তু বর্তমান সরকারের কঠোর নজরদারি এবং ‘রিয়েল-টাইম’ মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই বাধাগুলি অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে, যা উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

এই সাফল্যের পিছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। প্রথমত, প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করার ফলে লাল ফিতের ফাঁস অনেকটাই আলগা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিকাঠামো নির্মাণ ও জনকল্যাণমূলক কাজগুলিতে বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেছে। এবং তৃতীয়ত, জেলা স্তরে তহবিলের বণ্টন এবং তার ব্যবহারের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নেওগ জোর দিয়ে বলেন যে, বাজেট ব্যবহারের এই উচ্চ হার নির্দেশ করে যে অসমের অর্থনীতি এখন অনেক বেশি স্বচ্ছ এবং কার্যকরী। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে গ্রামীণ পরিকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে, যা দীর্ঘদিন ধরে সময়মতো তহবিল না পাওয়ার কারণে থমকে থাকত।

আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, ৫৮ শতাংশ থেকে ৮৫ শতাংশে এই উত্তরণ অসমের জন্য একটি বড় মাইলফলক। এটি কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক উন্নতি নয়, বরং রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবার মান পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রতিশ্রুতি। সরকারের এই কার্যকরী পদক্ষেপের ফলে কেন্দ্রীয় সরকার থেকেও অতিরিক্ত অনুদান বা বিনিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে, কারণ তহবিলের সঠিক ব্যবহার উন্নয়নশীল রাজ্যের জন্য একটি ইতিবাচক মানদণ্ড। অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী আর্থিক বছরগুলিতে এই ব্যবহারের হারকে ১০০ শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য। এই সংস্কারমুখী পদক্ষেপগুলি অসমকে একটি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও স্বনির্ভর রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদী সাহায্য করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *