April 10, 2026
image (18)

অসম মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ (ASSEB) আজ শুক্রবার ২০২৬ সালের হাইস্কুল শিক্ষান্ত পরীক্ষার (HSLC) ফলাফল ঘোষণা করেছে। এ বছর রাজ্যে সামগ্রিক পাসের হার ৬৫.৬২ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২.৫ শতাংশ বেশি। মেধা তালিকায় বাজালির পাতাচরকুচি শংকরদেব শিশু নিকেতনের জ্যোতির্ময় দাস রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে জেলায় গৌরব বয়ে এনেছেন।

এ বছর মোট ৪,২৮,২৪৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল, যাদের মধ্যে ২,৮১,৭০১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন বিশ্বনাথের আম্বিকাগিরি রায় চৌধুরী জাতীয় বিদ্যালয়ের আকাঙ্ক্ষা ভূঁইয়া। তৃতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছেন ডিব্রুগড় লিটল ফ্লাওয়ার হাইস্কুলের জিয়া ফারাহ ইসলাম এবং নলবাড়ির সুরজিৎ আক্তার। পর্ষদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ৮৫,১৮৯ জন প্রথম বিভাগে, ১,৫০,১৬৭ জন দ্বিতীয় বিভাগে এবং ৪৬,৩৪৫ জন তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এ বছর তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা পূর্বের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে, যা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

লিঙ্গভিত্তিক সাফল্যের হারে এ বছরও ছাত্ররা ছাত্রীদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। ছাত্রদের পাসের হার ৬৭.৭৮ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৬৩.৯৬ শতাংশ। জেলাভিত্তিক ফলাফলে ৮৮.২৩ শতাংশ পাসের হার নিয়ে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাহাড়ি জেলা ডিমা হাসাও। এর পরেই রয়েছে শিবসাগর (৮৪.০৮ শতাংশ) এবং ডিব্রুগড় (৭৮.৪৬ শতাংশ)। অন্যদিকে, কাছাড় জেলায় পাসের হার সবথেকে কম, মাত্র ৪৯.১৩ শতাংশ। এ বছর ৩,৯৮৩ জন শিক্ষার্থী ডিস্টিংশন মার্কস এবং ৯৯,০৫২ জন শিক্ষার্থী লেটার মার্কস অর্জন করে তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।

ফলাফল ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সফল শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে আগামী দিনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন। যারা কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি, তাদের হতাশ না হয়ে পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী রনোজ পেগু এই ফলাফলকে রাজ্যের শিক্ষা খাতের ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পর্ষদ সভাপতি আর.সি. জৈন জানিয়েছেন, যারা সর্বোচ্চ তিনটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছে এবং মোট ১৭০ নম্বর পেয়েছে, তারা আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য কম্পার্টমেন্টাল পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবে।

অসম জাতীয় পরিষদের সভাপতি লুরিনজ্যোতি গগৈ সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালের এই ফলাফল অসমে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে। এখন সকল দৃষ্টি থাকবে আসন্ন ভর্তি প্রক্রিয়ার দিকে, যেখানে এই বিপুল সংখ্যক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার পথে পা বাড়াবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *