গুয়াহাটি, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নিশ্চিত করেছেন যে রাজ্য সরকার শ্রীভূমি অঞ্চলের পাঠারকান্দি এলাকায় একটি পরিকল্পিত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে চলেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো সংরক্ষিত বনভূমি এবং সরকারি জমিতে অবৈধভাবে বসবাসকারী অনুপ্রবেশকারীদের সরিয়ে দেওয়া এবং ভূমির মালিকানা পুনরুদ্ধার করা।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পাঠারকান্দি ও সংলগ্ন দোহালিয়া ও পাঠারিয়া বনাঞ্চলে ব্যাপকভাবে অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে, যা রাজ্যের জনসংখ্যাগত ভারসাম্যকে প্রভাবিত করছে বলে অভিযোগ। অসমের গণপথ (PWD) মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “এই বসতিগুলি কেবল দুর্ঘটনাজনিত নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে জনসংখ্যার গঠন পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে।”
মুখ্যমন্ত্রী শর্মা জানান, উচ্ছেদ অভিযানটি ধাপে ধাপে পরিচালিত হবে এবং এতে রাজ্য পুলিশ, বন বিভাগ, এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি যৌথ বাহিনী গঠিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে ১.১৯ লক্ষ বিঘা জমি পুনরুদ্ধার করেছি। পাঠারকান্দি হবে আমাদের পরবর্তী ফোকাল পয়েন্ট।”
এই অভিযানের অংশ হিসেবে, সরকার স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে এবং আশ্বাস দিয়েছে যে প্রকৃত অধিবাসীদের পুনর্বাসনের বিষয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা হবে। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে, রাজ্যজুড়ে চলমান উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলগুলি অভিযানের মানবিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুললেও মুখ্যমন্ত্রী শর্মা বলেছেন, “অসমের ভূমি অসমবাসীর। আমরা লাচিত বরফুকনের উত্তরসূরি। আমাদের পরিচয় রক্ষা করতে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করব।”
এই অভিযানের মাধ্যমে অসম সরকার ভূমি দখলমুক্ত করার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে একটি কঠোর বার্তা দিতে চায়। পাঠারকান্দিতে অভিযান শুরু হলে এটি হবে বারাক উপত্যকার অন্যতম বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযান।
