আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি রাজ্য জুড়ে চলমান উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ-এর সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানির সমালোচনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আসামে কোনো মাদানির প্রভাব নেই এবং সরকার তার নিজের নীতি অনুযায়ী কাজ করছে।
মাদানির অভিযোগ ও মুখ্যমন্ত্রীর জবাব: জমিয়ত সভাপতি মাদানি অভিযোগ করেছিলেন যে, আসামে কিছু অঞ্চলে মুসলিমদের ওপর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে, যা বৈষম্যমূলক। এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শর্মা জোর দিয়ে বলেন, “আসামে মাদানির কোনো প্রভাব নেই। সরকারের নীতিতে মাদানি বা অন্য কোনো বাহ্যিক শক্তির কোনো ভূমিকা নেই।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই উচ্ছেদ অভিযান আইন অনুযায়ী হচ্ছে এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন যে, সরকারি জমিতে অবৈধভাবে বসবাসকারী সকল সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। এটি রাজ্যের ভূমি রক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
উচ্ছেদ অভিযানের যৌক্তিকতা: মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, উচ্ছেদ অভিযান শুধুমাত্র বনভূমি এবং নদী সংলগ্ন এলাকাকে দখলমুক্ত করার জন্য করা হচ্ছে। এই জমিগুলো বহু বছর ধরে অবৈধ দখলদারদের হাতে ছিল, যা রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং পরিবেশের জন্য হুমকি। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার রাজ্যের বনভূমিকে পুনরুদ্ধার করতে চায়।
আসাম সরকারের এই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই অভিযানের মানবিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর অবস্থানে অটল থেকেছেন এবং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই অভিযান জনস্বার্থে এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই করা হচ্ছে।
