অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আবারও রাজ্যের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বিরোধী দলগুলিকে রাজ্যের ইতিহাসে ‘ভুল বয়ান’ ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন। গुवাহাটিতে অনুষ্ঠিত বিজেপি রাজ্য কার্যনির্বাহী বৈঠকে তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে চালানো ‘তুষ্টিকরণ রাজনীতি’ রাজ্যে এক নতুন সভ্যতার উত্থান ঘটিয়েছে, যা অসমের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলছে।
তিনি ২০১১ সালের জনগণনার তথ্য উল্লেখ করে বলেন, মুসলিম জনসংখ্যা তখন রাজ্যের প্রায় ৩৪ শতাংশ, যার মধ্যে প্রায় ৩১ শতাংশই বাংলাদেশি উৎসের। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রতি জনগণনায় এই সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা প্রায় চার শতাংশ হারে বেড়েছে এবং ২০২৭ সালের জনগণনা প্রকাশিত হলে বাংলাদেশি উৎসের মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ শতাংশে পৌঁছতে পারে।
শর্মা অভিযোগ করেন, এই জনসংখ্যাগত পরিবর্তন আকস্মিক নয়, বরং অতীতে কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশলের ফল। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকে উৎসাহ দিয়ে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি চালানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বনাঞ্চলে উচ্ছেদ অভিযান আসলে একটি ‘পদ্ধতিগত অনুপ্রবেশ’ প্রতিরোধের পদক্ষেপ, যা জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষার জন্য জরুরি।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, অসমের ইতিহাস নিয়ে ‘ভুল বয়ান’ ছড়ানো হচ্ছে, বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে। তিনি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান এবং বলেন, নীরবতা রাজ্যের সামাজিক কাঠামোয় অপরিবর্তনীয় পরিবর্তন আনতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য বিজেপির বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে, যেখানে জনসংখ্যাগত প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে পরিচয়, ভূমির অধিকার ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বক্তব্য বিরোধী দলগুলির মধ্যে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
