অরুণাচল প্রদেশের অঞ্জাও জেলায় হায়ুলিয়াং–চাগলাগাম সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে সোমবার সাক্ষাৎ করেন অসম মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। নিহত শ্রমিকরা তিনসুকিয়া জেলার বিভিন্ন চা-বাগান ও গ্রাম থেকে নির্মাণকাজে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শর্মা তিনসুকিয়ার গেলাপুখুরি চা-বাগানে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করে তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, “এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আমরা বহু মূল্যবান প্রাণ হারিয়েছি। রাজ্য সরকার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে।”
সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, প্রতিটি নিহত শ্রমিকের পরিবারকে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ লক্ষ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। আহতদের জন্য প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে স্থানীয় প্রশাসন ও সেনা বাহিনী অংশ নেয়। অন্ধকারের কারণে উদ্ধার অভিযান কিছু সময়ের জন্য স্থগিত হলেও পরে পুনরায় শুরু হয়। ইতিমধ্যে কয়েকজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। একমাত্র জীবিত শ্রমিক বুধেশ্বর দীপ বর্তমানে ডিব্রুগড়ের অসম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী শর্মা এদিন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। তিনি আশ্বাস দেন যে রাজ্য সরকার ভবিষ্যতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে তিনি অসমে শিল্পায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যাতে শ্রমিকদের দূরবর্তী এলাকায় কাজের জন্য যেতে না হয়।
এই দুর্ঘটনা উত্তর-পূর্ব ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নিহতদের অন্তিম ক্রিয়া ইতিমধ্যে তিনসুকিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
