March 25, 2026
অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: চা শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে ক্ষোভ, চিন্তায় রাজনৈতিক দলগুলো

অসমের নির্বাচনী উত্তাপ এখন তুঙ্গে। আগামী ৯ এপ্রিল রাজ্যের ১২৬টি আসনে এক দফায় ভোটগ্রহণ। আর এই ভোটের লড়াইতে জয়-পরাজয়ের চাবিকাঠি যাদের হাতে, তারা হলেন রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ ভোটব্যাঙ্ক— চা শ্রমিক সম্প্রদায়। ডিব্রুগড় থেকে শুরু করে উজানি অসমের দিগন্তবিস্তৃত চা বাগানগুলোতে এখন রাজনীতির চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে পেটের টান। প্রতিদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর ন্যায্য মজুরি আর বাসস্থানের অধিকার কি এবার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটাবে? দেখুন আমাদের বিশেষ প্রতিবেদন।

ডিব্রুগড় এবং উজানি অসমের চা বাগানগুলোতে এখন দুটি শব্দ সবচেয়ে বেশি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে— ‘মজুরি’ এবং ‘মর্যাদা’। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অসমের অর্থনীতিকে সচল রাখা এই চা শ্রমিকরা এখন জীবনযাপনের নূন্যতম চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। আর ঠিক এই সময়েই কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন।

চা বাগানের শ্রমিক আরতির কথা ধরা যাক। তেরো বছর ধরে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে চা পাতা তুলছেন তিনি। কিন্তু এক দশকেরও বেশি সময় কাজ করার পর বর্তমানে তার দৈনিক মজুরি মাত্র ২৫০ টাকা। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া দামের বাজারে এই সামান্য টাকায় সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব বলে দাবি করছেন শ্রমিকরা। স্থানীয় শ্রমিক দীপাঞ্জলি মানকি বলেন, “আমরা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করি। জুতো বা রেইনকোটের মতো নূন্যতম সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই আমাদের পিচ্ছিল পাহাড়ি পথে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়।”

এই শ্রমশক্তির সিংহভাগই নারী। পরিবারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি বাগানে হাড়ভাঙা খাটুনি করতে হয় তাদের। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, অধিকাংশ বাগানেই উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা বা নূন্যতম স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। এমনকি রেশন বণ্টনেও বাগানভেদে বৈষম্য দেখা যায়। অসম চা জনজাতি ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, নূন্যতম মজুরির পাশাপাশি চা শ্রমিকদের জমির অধিকার বা ‘ল্যান্ড রাইটস’ এখন একটি আবেগপ্রবণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

নির্বাচনী ময়দানে থাকা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) এবং কংগ্রেস— উভয় পক্ষই এই ভোটব্যাঙ্কের গুরুত্ব বোঝে। খোওয়াং সহ চা বাগান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে প্রার্থীরা এখন তাদের প্রচারে বিদ্যুৎ সংযোগ, উন্নত স্কুল এবং পাকা রাস্তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন জোট সরকার যেখানে উন্নয়নের ধারাবাহিকতার কথা বলছে, সেখানে বিরোধী পক্ষ শ্রমিকদের আর্থিক দুর্দশাকে হাতিয়ার করে পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে।

উন্নয়নের রঙিন প্রতিশ্রুতি ব্যালট বক্সে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা বোঝা যাবে আগামী ৪ মে ফলপ্রকাশের দিন। তবে বাগানের শ্রমিকদের দাবি একটাই— তাদের ঘামের দাম এবং সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার অধিকার। অসমের রাজনীতির ভাগ্যবিধাতা এই চা শ্রমিকরা এবার কাকে বেছে নেবেন, তার ওপরেই নির্ভর করছে দিসপুরের মসনদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *