আসামের শিবসাগর জেলায় একটি নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের অংশবিশেষ ধসে পড়ায় ১১ বছরের এক বালকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের ব্যস্ত জনপথে এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বালকটি তার পরিবারের সঙ্গে বাজার থেকে ফিরছিল, ঠিক তখনই ফ্লাইওভারের একটি সিমেন্টের দেয়াল হঠাৎ ভেঙে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শিবসাগর সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে ফ্লাইওভারের নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। সাইটে কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা নিরাপত্তা বেড়া ছিল না, যা পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছিল। নির্মাণকাজের তদারকিতে অবহেলা এবং মান নিয়ন্ত্রণের অভাবকেই তারা এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করছেন।
শিবসাগরের জেলা প্রশাসক দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ইতিমধ্যে নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদারি সংস্থার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে। শিশুটির পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে যে শহরের অন্যান্য নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
এই দুর্ঘটনা আবারও তুলে ধরেছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি। এক শিশুর অকাল মৃত্যু যেন প্রশাসন ও নির্মাণ সংস্থাগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে ওঠে—উন্নয়নের নামে যেন আর কোনো প্রাণ না ঝরে।
