February 11, 2026
PST 4

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটার জন্য ভারতের শহরগুলিতে যখন ক্যুইক কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, সেই সময় গ্রাহকদের দোরগোড়ায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং হেলথকেয়ার পরিষেবা পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হচ্ছে তারা। যা নেটমেডস, টাটা ১এমজি, ফার্মইজ়ি এবং অ্যাপোলো ২৪/৭–এর মতো অনলাইন ফার্মা প্ল্যাটফর্মগুলিকে প্রতিযোগিতার মুখে ফেলে দিচ্ছে।

বর্ধিত ইন্টারনেটের ব্যবহার এবং ডিজিটাল হেলথকেয়ার সলিউশনের উপর নির্ভরশীলতা বাড়তে থাকায় চলতি বছরের মধ্যে এই বাজারের আয়তন ৪.৫ বিলিয়ন ইউএস ডলারে দাঁড়াবে বলেই অনুমান বিশেষজ্ঞদের। এই বিপুল বাজারে দখল বাড়াতে উঠেপড়ে লেগেছে অনলাইন ফার্মা সমেত ই–কমার্স সংস্থাগুলিও।

ক্রমেই বাড়তে থাকা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় মাত্র ১৯ মিনিটের মধ্যে বাড়ির দোরগোড়ায় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে অ্যাপোলো গোষ্ঠীর অনলাইন ওষুধ ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম অ্যাপোলো ২৪/৭। দেশের অন্যান্য শহরের পাশাপাশি কলকাতাতেও তাদের এই পরিষেবা শুরু করেছে সংস্থাটি। ইতিমধ্যেই মাত্র ১৯ মিনিটে ওষুধ ডেলিভারি পরিষেবা এবং এক দিনে গ্রাহকদের বাড়িতে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবার বিস্তারের কাজ শুরু করেছে তারা। সম্প্রতি এই সময়কে এ কথা জানান অ্যাপোলো ২৪/৭-এর চিফ এগজ়িকিউটিভ অফিসার মাধিবনন বালাকৃষ্ণণ।

অ্যাপোলা ফার্মাসি চেইন এবং অ্যাপোলো ২৪/৭-এর পরিচালক সংস্থা অ্যাপোলো হেলথকো লিমিটেড আগামী দু’বছরের মধ্যে সারা রাজ্যে ৮০-১০০টি নতুন বিপণি খোলার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে এ রাজ্যে সংস্থার মার্কেট শেয়ার বর্তমান ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশ হবে বলেই তাঁর দাবি।

রাজ্যের টিয়ার-টু শহরগুলিকে পাখির চোখ করছে সংস্থাটি। এ রাজ্যে তাদের বর্তমান বিক্রির প্রায় ৩৫ শতাংশ কলকাতার বাজার থেকে আসে। বর্তমানে, এ রাজ্যে সংস্থাটির ৯০০টি বিপণি রয়েছে। যার মধ্যে ৫০০টি কলকাতায়। নতুন বিপণিগুলি খোলার পর রাজ্যে সংস্থার মোট বিপণির সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

এই সময়কে বালাকৃষ্ণণ বলেন, ‘আগামী বছরগুলিতে এ রাজ্যের বাজারের ৩৫-৪০ শতাংশ এবং কলকাতা বাজারের ৫০ শতাংশ দখল করাই আমাদের লক্ষ্য। কলকাতা এবং সন্নিহিত এলাকাগুলিতে অনলাইন ক্যুইক ডেলিভারি এবং নতুন অফলাইন বিপণিগুলির হাত ধরে এই বৃদ্ধি আসবে। পশ্চিমবঙ্গে অ্যাপোলো ফার্মাসির বিপণিগুলিতে দৈনিক দেড় লক্ষ ইনভয়েস জেনারেট হয়।’ এর মধ্যে কলকাতায় ৩৫ শতাংশ ইনভয়েস জেনারেট হয় সংস্থাটির।

এ রাজ্যে ১৯ মিনিট ছাড়াও স্থান বিশেষে ২৯ মিনিটে ওষুধ ডেলিভারির পরিষেবাও শুরু করেছে অ্যাপোলো ২৪/৭। এর জন্য তাদের ফার্মাসিগুলিতে মাইক্রো-ওয়্যারহাউজ়িং পরিকাঠামো তৈরি করছে তারা। দ্রুত ক্রেতাদের দোরগোড়ায় ওষুধ পৌঁছে দিতেই এই ব্যবস্থা বলে বালাকৃষ্ণণ জানিয়েছেন।

তাঁর কথায়, ‘বর্তমানে শহরের ৮৫ শতাংশের বেশি অর্ডারই ফাস্ট ডেলিভারি পরিষেবার মাধ্যমে হয়ে থাকে। এখন আমাদের ৮০ শতাংশ অর্ডার আমরা ২৯ মিনিটে পৌঁছে দিই। বাকি অর্ডার দু’ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারি করা হয়।’

ভারতের অনলাইন ফার্মাসি বাজারের পুরোভাগে নেটমেডস, টাটা ১এমজি, ফার্মইজ়ি এবং অ্যাপোলা ২৪/৭-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলি রয়েছে।

অনলাইনে ওষুধ এবং হেলথকেয়ার পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে টেক্কা দিতে আসরে নামার পরিকল্পনা রয়েছে ই-কমার্স সংস্থাগুলিরও। ইতিমধ্যেই তাদের ফ্লিপকার্ট মিনিটস ব্র্যান্ডে ১০ মিনিটের মধ্যে ওষুধ ডেলিভারি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে ফ্লিপকার্ট। মেট্রো শহরগুলির স্থানীয় ওষুধের দোকানগুলিকে নিজস্ব নেটওয়ার্কে যোগ করার কাজ শুরু করেছে ই-কমার্স সংস্থাটি। দ্রুত পরিষেবা দিতে তাদের লাস্ট মাইল ডেলিভারি নেটওয়ার্কের উপরেই আস্থা রাখছে ওয়ালমার্টের মালিকানাধীন সংস্থাটি।

অনলাইনে ওষুধ অর্ডার দেওয়া এবং তা দ্রুত হাতে পাওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকায় গজিয়ে উঠেছে মেডিনোস এবং মেডসটাউনের মতো স্টার্টআপ সংস্থাগুলি। বেঙ্গালুরুতে ১০ মিনিটে ওষুধ ডেলিভারির জন্য স্যুইগির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ফার্মইজ়ি। অন্যদিকে, ওষুধ ডেলিভারি পরিষেবা শুরুর জন্য বিগবাস্কেটের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছে টাটা ১এমজি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *