আসামের নির্মাণ শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিল থেকে ২০ কোটি টাকা বোদোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল (BTC)-এ স্থানান্তরের একটি প্রস্তাবকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত নিয়ম ও নির্দেশনা উপেক্ষা করে এই অর্থ সরাসরি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই তহবিলটি পরিচালনা করে বিল্ডিং অ্যান্ড আদার কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড (BOCWWB)। বর্তমানে প্রস্তাবটি শ্রম কমিশনারের দপ্তরে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং সেখানে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্মাণ শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন সংক্রান্ত অর্থ অবশ্যই স্টেট স্কিল মিশন (ASDM) বা ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (NSDC)-এর মাধ্যমে ব্যয় করতে হবে। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে এই দুই সংস্থাকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি BTC-কে অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এটি স্পষ্টভাবে সরকারি নির্দেশনার লঙ্ঘন।
২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর বোর্ডের এক বৈঠকের কার্যবিবরণীতেও উল্লেখ ছিল যে দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ASDM-এর মাধ্যমেই দেওয়া হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক বোর্ড বৈঠকে ASDM-এর পক্ষ থেকে পাঠানো অর্থ চাওয়ার চিঠিটি আলোচনার তালিকায় রাখা হয়নি। অথচ BTC-এর অনুরোধটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শ্রমিক অধিকারকর্মীদের মতে, নির্মাণ শ্রমিকদের কাছ থেকে সংগৃহীত সেস মূলত তাদের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য ব্যবহার হওয়ার কথা। তাই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো নির্দিষ্ট কাউন্সিলকে সরাসরি অর্থ দেওয়া অন্যায় এবং বেআইনি।
তাঁরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। যদি বিভিন্ন কাউন্সিল সরাসরি অর্থ দাবি করতে শুরু করে, তবে রাজ্যের স্কিল মিশন ব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে।
তবে শ্রম কমিশনার এ. এল. গিয়ানি জানিয়েছেন, সব নিয়ম মেনেই অর্থ ব্যয় করা হবে। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থ ASDM-এর মাধ্যমেই দেওয়া হবে। তবে বর্তমানে নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর থাকায় ভোট শেষ হওয়ার পরই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শুধু ২০ কোটি টাকার নয়; এটি শ্রমিক কল্যাণ তহবিল ব্যবহারের স্বচ্ছতা ও সঠিকতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
