আকাসা এয়ার-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং চিফ কমার্শিয়াল অফিসার প্রবীণ আয়ার সম্প্রতি তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন, যা ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল এই বিমান পরিষেবা সংস্থায় একটি বড় রদবদল হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত চার মাসের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কোনো শীর্ষস্তরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সংস্থা ত্যাগ করলেন। এর আগে গত বছরের অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিয়াকলাপের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহ-প্রতিষ্ঠাতা নীলু খত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। প্রবীণ আয়ারের এই আকস্মিক বিদায় বিমান শিল্প মহলে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন আকাসা এয়ার তাদের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিষেবার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। সংস্থাটি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, প্রায় পাঁচ বছরের দীর্ঘ সফর শেষে প্রবীণ আয়ার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে একটি মসৃণ রূপান্তর নিশ্চিত করতে তিনি আগামী ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত নেতৃত্বের দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন।
প্রবীণ আয়ারের প্রস্থান আকাসা এয়ার-এর বাণিজ্যিক কৌশল এবং পরিচালনা পর্ষদে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি সংস্থাটির নির্বাহী কমিটিরও একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। তাঁর পদত্যাগের পর সংস্থার বর্তমান চিফ ইনফরমেশন অফিসার তথা অন্য এক সহ-প্রতিষ্ঠাতা আনন্দ শ্রীনিবাসন চিফ কমার্শিয়াল অফিসারের দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন। আকাসা এয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিনয় দুবে প্রবীণ আয়ারের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, বিমান সংস্থাটির গঠনমূলক বছরগুলোতে আয়ারের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং স্পষ্ট চিন্তাভাবনা অত্যন্ত সহায়ক ছিল। যদিও গত কয়েক বছরে আকাসা এয়ার তাদের বহরে ৩৩টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান অন্তর্ভুক্ত করে নজরকাড়া প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে, তবে পাইলট সংকট এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-এর পক্ষ থেকে পাওয়া বিভিন্ন কারণ দর্শানোর নোটিশের মতো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হয়েছে সংস্থাটিকে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আকাসা এয়ার প্রায় ১,৯৮৬ কোটি টাকা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে, যা ভারতীয় বিমান পরিবহন শিল্পের সামগ্রিক আর্থিক চাপের একটি প্রতিফলন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শীর্ষ স্তরের কর্মকর্তাদের একের পর এক প্রস্থান বিনিয়োগকারী এবং সংশ্লিষ্ট মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। নীলু খত্রী এবং প্রবীণ আয়ার ছাড়াও গত বছর মে ও জুন মাসে অজিত ভাগচান্দানি এবং অমল মানের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সংস্থা ছেড়েছিলেন। তবে আকাসা এয়ার কর্তৃপক্ষ এই পরিবর্তনগুলোকে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দাবি করছে। বর্তমানে সংস্থাটিতে আদিত্য ঘোষ, আনন্দ শ্রীনিবাসন, বেলসন কুটিনহো এবং ভাবিন জোশীর মতো অভিজ্ঞ সহ-প্রতিষ্ঠাতারা থাকলেও, নতুন সিআইও খোঁজার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বিমান শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নেতৃত্ব বদল আকাসা এয়ার-এর ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ এবং প্রতিযোগী বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
