February 11, 2026
AAJ 2

উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ভারসাম্য রক্ষা যে সম্ভব, তারই বাস্তব উদাহরণ তৈরি করল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (NFR)। ২০২৫ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর প্রযুক্তির সাহায্যে ট্রেনের ধাক্কা থেকে প্রাণে বাঁচল ১৬০টিরও বেশি হাতি, যা বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে এক বড় সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের বনাঞ্চল সংলগ্ন রেলপথে দীর্ঘদিন ধরেই হাতির সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ একটি বড় সমস্যা। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রেলওয়ে চালু করে AI-ভিত্তিক ইনট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেম (AI-IDS)। এই ব্যবস্থায় রেললাইনের আশপাশে বসানো সেন্সর ও থার্মাল ক্যামেরা হাতির উপস্থিতি শনাক্ত করলেই সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাচ্ছে লোকো পাইলট ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষে।

এর ফলে আগেভাগেই ট্রেনের গতি কমানো বা প্রয়োজনে থামানো সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে আসাম ও উত্তরবঙ্গের বনঘেরা রেলপথে এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা নিয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেল সূত্রে খবর, AI-IDS চালুর পর শুধু হাতির মৃত্যু কমেনি, একইসঙ্গে ট্রেন দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।

প্রযুক্তির পাশাপাশি সংবেদনশীল এলাকায় গতি নিয়ন্ত্রণ, হুইসল বোর্ড ও সতর্কতামূলক সাইনেজ বসানো, বন দফতরের সঙ্গে সমন্বয় ও লোকো পাইলটদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এই সব ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের একটি প্লেস বিজ্ঞপ্তিতে, ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত এলাকায় এই এআই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়। উদ্দেশ্য একটাই রেল চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা ও একইসঙ্গে মূল্যবান বন্যপ্রাণের জীবন রক্ষা করা।

পরিবেশবিদদের মতে, এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে যে আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করলে উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ একসঙ্গেই সম্ভব। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে, যা বন্যপ্রাণ রক্ষায় আশার আলো দেখাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *