February 11, 2026
13

গুয়াহাটি, ৬ সেপ্টেম্বর — কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর কাট-অফ তারিখ ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করার বিরুদ্ধে সরব হল অসম গণ পরিষদ (AGP)। দলটি জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ অসম চুক্তির পরিপন্থী এবং তারা শীঘ্রই সুপ্রিম কোর্টে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছে।

CAA অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে আশ্রয় নেওয়া অ-মুসলিম সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পূর্বে এই সুযোগ শুধুমাত্র ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশকারীদের জন্য প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু নতুন নির্দেশিকায় সেই সময়সীমা ২০২৪ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যা অসম চুক্তির ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের কাট-অফ তারিখের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

AGP নেতারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত অসমের ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগত পরিচয়ের ওপর আঘাত। AGP সভাপতি অতুল বোরা জানিয়েছেন, “আমরা অসম চুক্তিকে রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত অসমবাসীর আত্মপরিচয়কে বিপন্ন করছে। আমরা শীঘ্রই সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ে মামলা করব।”

CAA নিয়ে ২০১৯ সাল থেকেই অসমে তীব্র প্রতিবাদ চলছে। বহু রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজ এই আইনকে অসম চুক্তির বিরোধী বলে দাবি করে আসছে। All Assam Students’ Union (AASU) ইতিমধ্যেই নতুন নির্দেশিকার বিরুদ্ধে সারা রাজ্যে সত্যাগ্রহ কর্মসূচি শুরু করেছে।

অসম কংগ্রেসও এই ইস্যুতে কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপি সরকারকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছে। কংগ্রেস নেতা রিপুন বোরা বলেন, “CAA-র মাধ্যমে বিজেপি সরকার অসমকে বিদেশিদের জন্য ‘চারণভূমি’ বানাতে চাইছে। এটা অসম চুক্তির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।”

CAA-র নতুন নির্দেশিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। AGP-র এই পদক্ষেপ অসমে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ইস্যু রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *