February 23, 2026
৩,০০০ বছর পর বালির নিচে মিলল ‘সোনার শহর’, চমক মিশরের মরুভূমিতে

ইতিহাসের পাতায় নতুন সংযোজন। প্রায় ৩,০০০ বছর ধরে বালির নিচে চাপা পড়ে থাকা প্রাচীন ‘সোনার শহর’-এর সন্ধান মিলেছে মিশরের পূর্ব মরুভূমিতে। মিশরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রণালয়-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এক দীর্ঘমেয়াদি প্রত্নতাত্ত্বিক প্রকল্পে এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হয়েছে।
সুকারি পর্বতমালায় অবস্থিত এই প্রাচীন স্থাপনাটি ছিল একটি উন্নত সোনা প্রক্রিয়াকরণ কমপ্লেক্স। গবেষকদের দাবি, এটি কেবল একটি খনি এলাকা নয়, বরং পরিকল্পিত শিল্পনগরী—যেখানে সোনা উত্তোলন, পরিশোধন এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলত নিয়মিতভাবে। এখানে পাথর গুঁড়ো করার কেন্দ্র, পরিস্রাবণ বেসিন, পলির ট্যাঙ্ক এবং মাটির চুল্লির সন্ধান মিলেছে, যা সোনা গলানো ও বিশুদ্ধ করার কাজে ব্যবহৃত হত।
এই আবিষ্কারকে অনেকেই তুতানখামুন-এর সমাধি আবিষ্কারের সঙ্গে তুলনা করছেন গুরুত্বের দিক থেকে। কারণ, ধ্বংসাবশেষে শুধু খনির চিহ্নই নয়, বরং মানুষের বসবাস, পূজা ও দৈনন্দিন জীবনের স্পষ্ট প্রমাণও মিলেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এটি কোনও অস্থায়ী শিবির ছিল না; বরং দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত শিল্পকেন্দ্র।
মিশরের সুপ্রিম কাউন্সিল অফ অ্যান্টিকুইটিজ-এর কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল খালেদ জানিয়েছেন, এই স্থানের গঠন ও অবকাঠামো অত্যন্ত সংগঠিত অভিযানের ইঙ্গিত দেয়। এখানে সোনা শুধু সংগ্রহ করা হয়নি, দক্ষতার সঙ্গে নিষ্কাশন ও পরিশোধন করা হয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, খনি এলাকার পাশেই একটি আবাসিক অঞ্চলও চিহ্নিত হয়েছে, যা প্রমাণ করে এটি ছিল পূর্ণাঙ্গ কর্মচঞ্চল নগরী। মূল ফারাও যুগের পাশাপাশি রোমান ও ইসলামিক সময়ের স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষও পাওয়া গেছে, যা শহরটির দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেয়।
প্রাচীন মিশরের শিল্প ও অর্থনীতির নতুন অধ্যায় উন্মোচন করল এই ‘সোনার শহর’-এর আবিষ্কার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *