একজন গুরুতর দগ্ধ রোগীকে বাঁচাতে সময়ের সঙ্গে লড়াই। কিন্তু সেই জীবনদায়ী উড়ানই পরিণত হল মৃত্যুযাত্রায়।
রাঁচি থেকে দিল্লিগামী একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলার সিমারিয়া থানা এলাকার কর্মাতন্দের ঘন জঙ্গলে বিধ্বস্ত হয়ে মৃত্যু হল দুই ক্যাপ্টেন-সহ মোট সাতজনের।
বেসরকারি বিমান সংস্থা রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড পরিচালিত মেডিক্যাল চার্টার্ড বিমানটি সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। রাত ১০টার মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছনোর কথা ছিল।
কিন্তু উড়ানের প্রায় কুড়ি মিনিট পরই এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরেই খবর আসে সীমারিয়ার জঙ্গলে বিমানটি ভেঙে পড়েছে।
রাঁচির দেবকমল হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, লাতেহারের বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী সঞ্জয় কুমারের শরীরের প্রায় ৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দিল্লিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
চাতরার ডেপুটি কমিশনার কীর্তিশ্রী জি জানান, বিমানে থাকা সাতজনেরই ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন দুই ক্যাপ্টেন, চিকিৎসক ও রোগীসহ সকল যাত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় এলাকায় প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাত হচ্ছিল। একটি বিকট শব্দের পর জঙ্গলে আগুনের আভা দেখা যায়। অন্যদিকে প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। রাঁচি বিমানবন্দরের ডিরেক্টর জানিয়েছেন, খারাপ আবহাওয়ার প্রভাব থাকতে পারে, তবে প্রকৃত কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।
সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যেই বিষয়টি জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
