অনেকেই মনে করেন, মস্তিষ্ককে সচল ও তীক্ষ্ণ রাখতে হলে সব সময় জটিল ও কঠিন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে একাধিক স্নায়ুবিজ্ঞানী ও মনোরোগ চিকিৎসকের মতে, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। তাঁদের মতে, প্রতিদিনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাসই মস্তিষ্ককে দীর্ঘদিন সক্রিয় ও সতেজ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনে এই তিনটি অভ্যাস গড়ে তুললে মস্তিষ্ক সুস্থ ও সক্রিয় থাকতে পারে।
কিছু সময় নিজের জন্য রাখা
অনেকের দিনই কাটে নানা ব্যস্ততায়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, মস্তিষ্কেরও বিশ্রাম দরকার। তাই প্রতিদিনের সময়সূচিতে কিছুটা সময় একেবারে ফাঁকা রাখা উচিত। এই সময়ে কোনও নির্দিষ্ট কাজ না করে বাড়ির বাগান, ছাদ বা বারান্দায় বসে প্রকৃতি দেখা, শান্তভাবে চিন্তা করা বা ডায়েরিতে নিজের ভাবনা লিখে রাখা যেতে পারে। এমন নিরিবিলি সময় মস্তিষ্কের সৃজনশীলতা বাড়ায় এবং মানসিক ক্লান্তি কমায়।
পছন্দের কাজ করা
মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে নিয়মিত তাকে কাজ দেওয়া জরুরি, তবে সেই কাজ আনন্দদায়ক হওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোটবেলার কোনও শখ আবার শুরু করা ভালো অভ্যাস হতে পারে। যেমন – গান গাওয়া, বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা নাচের অনুশীলন, ছবি আঁকা। পাশাপাশি ধাঁধা বা পাজলের সমাধান করাও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। এসব কার্যকলাপ স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং যুক্তিবোধ বাড়াতে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে সক্রিয় রাখে।
সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন
মানসিক ক্লান্তি বা মনোযোগ কমে গেলে সহজ শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন কার্যকর হতে পারে। একটি নাসারন্ধ্র দিয়ে শ্বাস নিয়ে অন্যটি দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার নিয়মে কয়েক মিনিট অনুশীলন করলে শরীর ও মন শান্ত হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই ধরনের শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের জীবনে ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাসই বড় সুফল দিতে পারে।
