আসাম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর দামামা বেজে গিয়েছে। গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জনমুখী করে তুলতে কামরূপ জেলা প্রশাসন আজ, ৩০ মার্চ থেকে এক বিশেষ ‘হোম ভোটিং’ বা বাড়িতে বসে ভোটদান কর্মসূচি শুরু করেছে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা যেন কোনো নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনের এই বড় পদক্ষেপ।আজ থেকে শুরু হওয়া এই তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি চলবে আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত। কামরূপ জেলার ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষভাবে সক্ষম (PwD) ভোটাররা এই পরিষেবার সুবিধা পাচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশেষ নির্বাচনী দলগুলি আগে থেকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ভোটারদের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটি মসৃণ করতে যোগ্য ভোটারদের নির্দিষ্ট দিনে বাড়িতে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ‘নো ভোটার লেফট বিহাইন্ড’ বা ‘কোনো ভোটারই যেন বাদ না পড়ে’—এই নীতিকে সামনে রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যারা ভোটকেন্দ্রে যেতে অক্ষম, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
পাশাপাশি, নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কামরূপ জেলা প্রশাসনের কনফারেন্স হলে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) এবং ভিভিপ্যাট (VVPAT) ইউনিটের দ্বিতীয় পর্যায়ের র্যান্ডমাইজেশন বা লটারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক দেব কুমার মিশ্রের তত্ত্বাবধানে এবং সাধারণ পর্যবেক্ষক দেবেন্দ্র কুমার পাণ্ডে ও এস. ভারতী দাসানের উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘ইএমএস ২.০’ (EMS 2.0) সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই মেশিনগুলি বিভিন্ন পোলিং বুথের জন্য বরাদ্দ করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে তারা সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।একদিকে বাড়িতে বসে ভোটদানের মতো মানবিক উদ্যোগ, অন্যদিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইভিএম বণ্টন—সব মিলিয়ে ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য কামরূপ জেলা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। গণতন্ত্রের এই উৎসবে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
