March 23, 2026
4

গুয়াহাটি, ৯ জুলাই ২০২৫ — আসামে গত ২৩ বছরে মানুষ-হাতি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ১,৪০০ জন মানুষ এবং ১,২০৯টি হাতি, এমনটাই জানিয়েছে ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (WII)-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন। ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সংঘটিত ১,৮০৬টি সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৩৭ জন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬২৬টি হাতির মৃত্যু ঘটেছে মানবসৃষ্ট কারণে, যার মধ্যে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২০৯টি হাতির। অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনা (১২৭), ট্রেন দুর্ঘটনা (৬৭), বিষক্রিয়া (৬২), শিকার (৫৫), প্রতিশোধমূলক হত্যা (৫), এবং যানবাহনের ধাক্কা (৪)। ৫৮৩টি প্রাকৃতিক মৃত্যুর মধ্যে ৩৪৪টি ঘটেছে বার্ধক্য, হৃদরোগ, বজ্রপাত, ডুবে যাওয়া, পাহাড় থেকে পড়ে যাওয়ার মতো কারণে।

মানুষের মৃত্যুর দিক থেকে গোলপাড়া (১৭৫), উদালগুড়ি (১৬৮), সোনিতপুর পূর্ব (১৫৬), গোলাঘাট (১১০) এবং সোনিতপুর পশ্চিম (১১০) অঞ্চলগুলি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। ৫২৭টি গ্রাম এই সংঘর্ষে প্রভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে গোলপাড়া জেলার ৮০টি গ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

প্রতিবেদনটি আরও জানায়, প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ হাতিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, বিশেষত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ও প্রতিশোধমূলক হত্যার কারণে। রেলপথ সম্প্রসারণ, অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সংযোগ, এবং অবৈধ বৈদ্যুতিক বেড়া এই মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনা বর্ষাকালে সর্বাধিক ঘটে, যখন হাতিরা খাদ্য ও আশ্রয়ের সন্ধানে মানুষের বসতিতে প্রবেশ করে। প্রতিবেদনটি বাসস্থান পুনর্গঠন, সংঘর্ষ প্রশমন, এবং অবকাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে টেকসই সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগ, নীতিগত হস্তক্ষেপ, এবং বন বিভাগ ও রেল বিভাগের সমন্বিত প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *