ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (DMA) অনুযায়ী ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় বাধ্যতামূলক সম্মতি আদায়ের বিধান থাকা সত্ত্বেও, প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা তাদের ‘পে-অর-সম্মতি’ (Pay or Consent) মডেলে কেবলমাত্র সীমিত পরিবর্তন আনছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। এই পদক্ষেপকে ইইউ অপর্যাপ্ত এবং ব্যবহারকারীর অধিকার লঙ্ঘনকারী হিসেবে বিবেচনা করছে।
মেটার বর্তমান মডেল অনুযায়ী, ইউরোপীয় ব্যবহারকারীরা যদি তাদের ব্যক্তিগত তথ্য বিজ্ঞাপন লক্ষ্যকরণে ব্যবহারে সম্মতি না দেন, তবে তাদের মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতে হয়। এই মডেলকে ইইউর অনেক নীতিনির্ধারক ও গোপনীয়তা বিশেষজ্ঞরা ‘বিকল্পহীন সম্মতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ইইউর ডিজিটাল কমিশনার থিয়েরি ব্রেটন বলেন, “ব্যবহারকারীদের প্রকৃত পছন্দের সুযোগ না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে গোপনীয়তা বিক্রি করার এই মডেল DMA-এর মূল চেতনার পরিপন্থী।” কমিশন জানিয়েছে, মেটার সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো ‘সারাংশগত নয়’, এবং ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যে ও সমান কার্যকর বিকল্প থাকা উচিত।
ইতিমধ্যে ইউরোপীয় কমিশন মেটার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে, যা প্রমাণিত হলে কোম্পানিটিকে বার্ষিক বৈশ্বিক আয়ের ১০% পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
মেটা দাবি করেছে, তারা DMA-এর বিধান মেনেই ব্যবহারকারীদের বিকল্প দিচ্ছে এবং তাদের মডেল স্বচ্ছ ও আইনসম্মত। কোম্পানির এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের পদ্ধতি ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী বৈধ এবং ব্যবহারকারীদের পছন্দের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর গোপনীয়তা নীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি কমিশন মেটার মডেলকে বেআইনি ঘোষণা করে, তবে অন্যান্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকেও তাদের ব্যবসায়িক মডেল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
ইইউর এই পদক্ষেপ ডিজিটাল অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে বলে মনে করছেন গোপনীয়তা বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, মেটা কতটা নমনীয়তা দেখায় এবং কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়।
